কোনটি ভিটামিন a জাতীয় খাবার নয় class 5

কোনটি ভিটামিন a জাতীয় খাবার নয় class 5 – এটা লিখে অনেকেই গুগলে সার্চ করে আজকাল। এটি আসলে একটি class 5 এর প্রশ্ন। আমি এই প্রশ্নটির (কোনটি ভিটামিন a জাতীয় খাবার নয় class 5) উত্তর দিবো এবং সাথে ভিটামিন এ এর বেশ কিছু তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করব। এই লেখার মাধ্যমে আপনি এই প্রশ্নটির উত্তর এর সাথে সাথে ভিটামিন এ এর ব্যাপারে আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন।

FaQ

কোনটি ভিটামিন a জাতীয় খাবার নয় class 5?

১. গাজর
১. পাকা আম
৩. হলুদ বর্ণের ফল
৪. আমলকি

আমলকি ভিটামিন a জাতীয় খাবার নয়।

ভিটামিন এ জাতীয় খাবার কী কী?

ভিটামিন এ জাতীয় খাবার – গাজর, মিষ্টি কুমড়া, কলা, পাকা পেঁপে, সবুজ শাকসবজি, পাকা আম বা যেকোনো হলুদ ফল, বিভিন্ন লিভারের তেল, দুধ মাংস ডিম এইসব খাবারে আমরা ভিটামিন-এ পেয়ে থাকি।

কোন ভিটামিনের অভাবে শিশুদের রাতকানা রোগ হতে পারে class 6?

A ভিটামিনের অভাবে শিশুদের রাতকানা রোগ হতে পারে।

ভিটামিন এ কে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে কোন ভিটামিন?

১. ভিটামিন E
২. ভিটামিন C
৩. ভিটামিন D
৪. ভিটামিন B​

ভিটামিন A কে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে E ভিটামিন।

দৈনিক খাদ্য তালিকায় ভিটামিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তু সমস্যা এই আমরা কখনো বাজার করতে গিয়ে ভিটামিন হিসাব করে বাজার করি না। আমাদের সামনে যেটা ভালো লাগে সেটাই বাজার করে চলে আসি। এতে হয় কি কোন ভিটামিন আমাদের বেশি খাওয়া হয়ে যাচ্ছে, কোন টি বাদ পড়ে যাচ্ছে যার কারণে আমাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ হচ্ছে। যেমন আপনার বাচ্চার ভিটামিন এর অভাবে ঠিকমতো তার হাড়ের বৃদ্ধি হচ্ছে না। বডি গ্রোথ ঠিকমতো হচ্ছে না আবার একই ভিটামিন বেশি পরিমাণ ব্যবহার করার কারণে আপনার হাড় ক্ষয় হচ্ছে।

তাহলে আপনার অবশ্যই ভিটামিন হিসাব করে বাজার করা উচিত। আপনার বাজার করতে গেলে যেকোনো একটি সবজি ভিটামিন-এ, যেকোনো একটি ফল ভিটামিন-বি, যেকোনো একটি সবজি ভিটামিন-সি, এরকম দেখে বাজার করা উচিত। আসলে আমরা কখনই ভিটামিন দেখে বাজার করিনা। আমরা বাজার করি হচ্ছে যার যা ইচ্ছা মনে হয় সামনে যেটা ভালো লাগে সেরকম বাজার করে চলে আসি।

মনে করুন আপনি বাজারে গিয়ে মিষ্টি কুমড়া, গাজর এবং করোলা কিনলেন। কিন্তু এই মিষ্টি কুমড়া গাজর এবং করলেই তিনটিতেই রয়েছে ভিটামিন এ কিন্তু আপনি দিকে ভিটামিন-বি কিনলেন না, ভিটামিন সি কিনলেন না ভিটামিন ডি কিনলেন না আপনি তিনটা সবজি কিনে নিয়ে আসলেন ভিটামিন-এ।

Read: রসুন খাওয়ার সিক্রেট টিপস জেনে নিন

যার কারণে ভিটামিন বি সি ডি এগুলো বাদ পড়ে গেল আপনি ভিটামিন-এ অতিরিক্ত খেলেন। আবার আর একদিন গিয়ে আপনি ভিটামিন-ডি বেশি পরিমাণ কিনলেন, ভিটামিন এ কিনলেন না, ভিটামিন সি কিনলেন না। আবার এমন দিন কি আপনি সি কিনে নিয়ে আসলেন অন্যগুলো কিনলেন না। এভাবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যদি ভিটামিন এ বি সি ডি বি কমপ্লেক্স বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স রয়েছে এগুলো আপনার বাপ পড়ে গেল ফলে আপনার বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়।

তাই আমাদের উচিত কোন সবজি কোন ফলে কোন ভিটামিন রয়েছে সেটা দেখে ভিটামিন এ বি সি ডি হিসাব করে বাজার করা। তাহলে আপনার ব্যালেন্সটা ঠিকমতো হয় অর্থাৎ সকল ধরনের ভিটামিন আপনি খেলেন কোনটি বেশি কোনোটি কম আপনার হলো না। তাই আমাদের সকল ভিটামিন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা দরকার। কোন খাবারে ভিটামিন এ রয়েছে এই ভিটামিনের অভাবে কি সমস্যা হয়। আমরা আগে জানতাম জাতীয় ভিটামিন খাবার খাওয়া ভালো। কিন্তু ভিটামিন জাতীয় খাবার যদি অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণ করি তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি।

কোনকিছুই অতিরিক্ত ভালো না তাই আমরা অতিরিক্ত কোন কিছু গ্রহণ করব না যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই গ্রহণ করব। তাই আমাদের জানতে হবে কোন খাবারে কোন ভিটামিন রয়েছে এবং হিসাব করে আমাদের বাজার করা, বাজার লিস্টে যাতে সব ধরনের ভিটামিন থাকে তাড় দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

আজকে আলোচনা করব ভিটামিন এ। ভিটামিন এ কোন কোন খাবারে রয়েছে? ভিটামিন এ র অভাবে কি ধরনের সমস্যা হয়? ভিটামিন এর অতিরিক্ত গ্রহণ করলে কি হয়? আমাদের দেহে কি কাজে লাগে? সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

ভিটামিন এ র অভাবে কি ধরনের সমস্যা হয়?

দৃষ্টির জন্য প্রয়োজন

ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয় এই কথাটি আমরা সবাই কমবেশি জানি। আমাদের চোখে দুই ধরনের কোষ রয়েছে কোন সেল এবং রড সেল। আমাদের রাত্রে দেখার ক্ষেত্রে এই রড সেল কাজ করে থাকে। অর্থাৎ আমরা প্রচন্ড একটি আলো রুমে রয়েছি, হঠাৎ করে একটি অন্ধকার রুমে প্রবেশ করলাম। সাথে সাথে আমাদের রড সেল একটিভ হয়ে যায় তখন অন্ধকারে দেখার চেষ্টা করে। তখন আমাদের চোখের মনি বড় হয়ে যায় এবং এই রড সেল ভিটামিন এর সহযোগিতায় আমরা দেখতে পাই। অর্থাৎ লো ব্রাইটনেস এর অল্প আলোতে আমরা দেখতে পাই।

এটা করে থাকে এই রড সেল এবং রড সেলের সাথে ভিটামিন এ যদি না থাকে তাহলে আমরা অল্প আলোতে দেখতে পারবোনা। যে কারণে এই ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয় অর্থাৎ রাতে দেখতে পায় না বা অল্প আলোতে দেখতে পারে না সেটা কি বলা হয় রাতকানা রোগ।

আবরণীয় কলার বৃদ্ধি

ভিটামিন এ epithelialization করে থাকে অর্থাৎ আমাদের আবরণীয় কলা, এটিি একটি আবরণ কলা এবং নাক থেকে ফুসফুসের ভিতরের অংশ আবরণীয় কলায় ঢাকা এবং মুখ থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত যে জি আই ট্রাক রয়েছে, খাদ্য রয়েছে – এখানে অভ্যন্তরীণ ভিতরের যে আবরণ রয়েছে এবং ইউরিনারি ট্রাক্ট অর্থাৎ মূত্রথলি থেকে মূত্রনালী পর্যন্ত পথ এবং তাছাড়া প্রজননতন্ত্রের আবরণীয় কলা রয়েছে। এই আবরণীয় কলা ডেভলপ করতে এই ভিটামিন এর প্রয়োজন হয়।

অর্থাৎ আমরা যদি ভিটামিন-এ ঠিকমতো গ্রহণ না করি, এই আবরণীয় কলা ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে আমাদের চর্ম শুষ্ক হয়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি, অল্পতেই শুষ্ক হয়ে যায়, ব্যাঙের চামড়ার মত হয়ে। যায় তাছাড়া মূত্রনালীতে সমস্যা, bone growth এ সমস্যা ভিটামিন এ এর অভাবে হয়ে থাকে।

ইমিউনিটি

আমাদের ইমিউনিটির ক্ষেত্রে এই ভিটামিন এ বিশেষ ভূমিকা পালন করে, যেরকম আমাদের হাড়ের ভিতরে রক্তের কোশ গুলো তৈরি হয়। এই রক্তের কোষ তৈরি হতে অর্থাৎ immune cell যেটাকে বলি আমরা হোয়াইট ব্লাড সেল। এই হোয়াইট ব্লাড সেল আমাদের হাড়ের ভিতরে তৈরি হয়, যখন তৈরি হয় যেটাকে বলা হয় মাদার সেল। যে মাতৃকোষ আমাদের রোগ-প্রতিরোধক্ষমতার যে কোষ গুলো রয়েছে সেগুলো সেল ডিভিশন করে তৈরি করে। সেই সেল ডেভলপ করার জন্য বা কোষ বিভাজনের জন্যই ভিটামিন এ এর প্রয়োজন।

ভ্রূণ উন্নয়ন

প্রজনন তন্ত্রের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভিটামিন এ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিন এ কম গ্রহণ করার ফলে ঠিকমতো বেবি কনসেপ্ট করে না এবং কনসেপ্ট করলেও পরবর্তীতে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। ভিটামিন এ এন্টিঅক্সিডেন্ট এর বিশেষ ভূমিকা পালন। এন্টিঅক্সিডেন্ট হচ্ছেে আমাদের দেহে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভাবে খাদ্যের মাধ্যমে, নিঃশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের দেহে, রেডিয়েশন এর মাধ্যমে আমাদের দেহে বিভিন্নভাবে কোষ এর বিকাশ এর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে আমাদের দেহের inflammation তৈরি হয় এই কোষ এর inflammation বন্ধ করার জন্য বা প্রদাহ বন্ধ করার জন্য এই ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কোন কোন খাবারে আমরা ভিটামিন এ পেয়ে থাকি?

আমরা ভিটামিন-এ পেয়ে থাকি গাজর, মিষ্টি কুমড়া, কলা, পাকা পেঁপে, সবুজ শাকসবজি, পাকা আম বা যেকোনো হলুদ ফল, বিভিন্ন লিভারের তেল, দুধ মাংস ডিম এইসব খাবারে আমরা ভিটামিন-এ পেয়ে থাকি।

ভিটামিন এ র অভাবে কি ধরনের সমস্যা হয়?

আমরা ছোটবেলা থেকেই জানি ভিটামিন এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। একটু আগে ভিটামিন এর সম্পর্কে আলোচনা করলাম, ভিটামিন এ কি কি আমাদের দেহে কাজ করে। ঠিক তার উল্টোটা হচ্ছে তার অভাব জনিত লক্ষণ। যেরকম ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয়, শ্বাসনালির প্রদাহ, ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, বাচ্চার দৈহিক বৃদ্ধিতে ব্যাহত হওয়া, কিডনিতে পাথর, বন্ধাত্য, অস্থির বৃদ্ধি না হওয়া এবং ব্রণ।

উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের দেখা যায় প্রচুর পরিমাণ ব্রন। এই তরুণ এবং তরুণদের বেশি পরিমাণ ভিটামিন এ খাওয়া দরকার এবং শিশুদের বেশি পরিমাণ ভিটামিন এ দরকার হয়। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের বেশি পরিমাণ ভিটামিন এর প্রয়োজন হয়। যখন এই ভিটামিন এ ডেফিশিয়েন্সি হয় তখন এইসব লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।

অতিরিক্ত পরিমাণ ভিটামিন এ গ্রহণ করলে কি ধরনের সমস্যা হয়?

ভিটামিন-এ অতিরিক্ত তখনই গ্রহণ করে যখন ভিটামিন সম্পর্কে ধারনা থাকে না। কোন খাবারে ভিটামিন এ কোন খাবারে ভিটামিন বি, কোন খাবারে ভিটামিন-সি, এই সম্পর্কে ধারণা না থাকলে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণ করেন। যেরকম প্রথমে উদাহরণ দিলাম যে আপনি বাজারে গিয়ে যখন মিষ্টি কুমড়া গাজর এবং করোলা কিনে নিয়ে আসবেন, তখন আপনি ভিটামিন এ সব কিনে নিয়ে আসছেন। তখন আপনার অতিরিক্ত পরিমাণে ভিটামিন এ খাওয়া হয়ে যাচ্ছে বা আপনি এই খাবারটা বেশি পছন্দ করেন তাহলে বারবার আপনি মিষ্টি কুমড়া গাজর করলা তারপর ভিটামিন-এ আরো যে খাবারগুলো আছে সব সময় সেই খাবারগুলো খাচ্ছেন।

কিন্তু ওদিকে ভিটামিন ডি সি তারপরে ই এগুলো গ্রহণ করলে না ফলে ওই অন্যসব ঘাটতির কারণে বিভিন্ন রোগ দেখা দিলে আবার অতিরিক্ত পরিমাণ যদি ভিটামিন এ গ্রহণ করেন তাহলে আপনার বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিবে। প্রথমে মেডিকেল সাইন্স বলেছে অতিরিক্ত পরিমাণ যদি ভিটামিন গ্রহণ করেন তাহলে কোন ধরনের সমস্যা নেই স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

কিন্তু এই মর্ডান সাইন্স আবিষ্কার করেছে যে ভিটামিন যদি বেশি পরিমাণ গ্রহণ করেন তাও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিবে, বিভিন্ন ধরনের রোগ হবে। তাই আপনাদের সকল ভিটামিন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা দরকার।

ভিটামিন এ বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে কি ধরনের সমস্যা হয়?

ভিটামিন এ অতিরিক্ত গ্রহণ করলে চুল উঠে যায়, দেহের ওজন কমে যায়, খাওয়ায় অরুচি হয়, বমি বমি ভাব এবং অস্থির ক্ষয় হয়। যে ভিটামিন গ্রহণ করলে রাতকানা রোগ, বন্ধ্যাত্ব, পরিপাকতন্ত্র, শ্বাস-প্রশ্বাস তন্ত্রের সমস্যা হয়। আবার সেই ভিটামিন অতিরিক্ত গ্রহণ করার ফলে চুল পড়ে যায়,অস্থির ক্ষয় হয়।

যে ভিটামিন অতিরিক্ত গ্রহণ করলে অস্থির ক্ষয় হয়, আবার কম গ্রহণ করলে অস্থির ঠিকমতো বৃদ্ধি হয় না। তাই আপনাদের সকল ভিটামিন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা দরকার, আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি যদি আমরা সঠিকভাবে জানি আমাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ হল শুধুমাত্র ডায়েট এর মাধ্যমে ডায়েট প্লান এর মাধ্যমে আমাদের রোগ আরোগ্য করা সম্ভব।

Sharing Is Caring: