কোন রোগটি আয়রন নামক খনিজ মৌলের অভাবজনিত রোগ

কোন রোগটি আয়রন নামক খনিজ মৌলের অভাবজনিত রোগ? রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগটি আয়রন নামক খনিজ মৌলের অভাবজনিত রোগ।

রক্তাল্পতা কি? রক্তাল্পতা হওয়ার কারণ কি? 

অ্যানিমিয়া রক্তের একটা অবস্থা যেখানে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। ছেলেদের হিমোগ্লোবিন বারো গ্রামের কম যদি হয় ও মেয়েদের হিমোগ্লোবিন যদি এগারো গ্রামের কম হয় পার ডেসিলিটার তাহলে আমরা সেই অবস্থা কে অ্যানিমিয়া বলি।

অ্যানিমিয়ার বহু কারণ আছে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে আইরন ডেফিসিয়েন্সি বা শরীরে লোহার অভাব। আমাদের দেশে এটাই সবচেয়ে বড় কারণ এবং এর একটা বড়ো কারণ হচ্ছে যে আমাদের যে খাদ্য তাতে লোহা কম থাকলে এই সমস্যাটা দেখা দেয়।

কোন খাদ্যে বা খাবারে লোহা বেশি থাকে

এটা মূলত আমিষ জাতীয় খাবার বেশি থাকে যেমন মাংস, মেটে, ডিমের কুসুম চিংড়ি, মাছ এগুলোতে লোহা বেশি থাকে। এছাড়া কিছু কিছু ফল যেমন আঙুর, কিশমিশ, খেজুর, বাদাম আখরোট, এগোতে থাকে। কচু, মোচা, ওল, থোর এগুলোতে থাকে। মুড়ি, চিঁড়ে এগুলো আয়রনের ভালো সোর্স। কমলালেবু, পাতিলেবু এগুলো তো আয়রন পাওয়া যায়। চিনি এবং গুঁড়ের মধ্যে গুড় এ বেশি আয়রন থাকে তাই গুড়ের খাদ্যগুণ বেশি। এই সব খাবারগুলো সুষম ভাবে গ্রহণ করলে আমাদের শরীরে আয়রন ডেফিসিয়েন্সি বা লোহার অভাব ঘটার কারণ নয়।

অ্যানিমিয়া হবার কারন

এছাড়াও ভিটামিন বি টুয়েলভ যদি আমাদের শরীরে কমে যায়, তাহলে অ্যানিমিয়ার হতে পারে। ভিটামিন বি টুয়েলভ এটা মূলত আমিষ জাতীয় খাদ্যে থাকে, যেমন মাছ, মাংস ইত্যাদি। যে কারণে যারা নিরামিষাশী যেমন জৈন কমিউনিটি বা মারুয়ারি কমিউনিটি যাঁরা আছেন, তাঁরা অনেক সময় বি টুয়েলভ এর ডেফিসিয়েন্সির অভাবে ভুগে থাকেন। নিরামিষ খাবারের মধ্যে পনিরে ভিটামিন বি টুয়েলভ রয়েছে। ফলিক অ্যাসিড একটা ভিটামিন, যা রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে এবং শাকসবজিতে ফলিক অ্যাসিড বেশি থাকে সুতরাং আমরা যদি শাকসবজি বেশি না খাই তাহলে অ্যানিমিয়া হতে পারে।

এই ধরনের নিউট্রিশন অ্যানিমিয়া ছাড়াও অ্যানিমিয়া আরও নানা কারণ থাকতে পারে এবং কারও যদি কিডনির অসুখ থাকে তাহলে অ্যানিমিয়া হতে পারে। লিভারের অসুখ থাকলে অ্যানিমিয়া হতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা থেকে অ্যানিমিয়ার উৎপত্তি হতে পারে। কারও যদি remoudic arthritis টির মতো অসুখ থাকে সেখান থেকে অ্যানিমিয়া হতে পারে। তাহলে আমাদের এগুলো মাথায় রাখতে হবে।

Read: আপেল সিডার ভিনেগার এর উপকারিতা

এ ছাড়া আমাদের দেশে থ্যালাসেমিয়া বর্গের একটা অসুখ আছে এগুলোকে মুলত ইনহেরিটেড অ্যানিমিয়া আমরা বলি। বংশগতিসূত্রে আমাদের কাছে এ গুলো আসে। তার মধ্যে থ্যালাসেমিয়া বা সিকল সেল অ্যানিমিয়া এই ধরনের রোগী আমরা পাই যেখানে বংশগত কারণে রোগীদের অ্যানিমিয়া হচ্ছে এবং তারও নানা রকম চিকিৎসা রয়েছে।

এই ওষুধগুলো বাদ দিলে যে অ্যানিমিয়ার কারণ গুলো পড়ে থাকে সেগুলো মূলত ক্যানসার। একজন যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তাহলে তাঁর অ্যানিমিয়া হতে পারে। সেটা সাধারণত আমরা ব্লাড ক্যান্সারে আমরা দেখি, যেমন লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, মাইলোমা এগুলোতে। বা যদি কোনও সলিড অরগ্যান ক্যানসার থাকে তাহলে সেক্ষেত্রেও অ্যানিমিয়া হতে পারে। অর্থাৎ একজন ব্রেস্ট ক্যানসারের রোগী, ইউটেরাইন ক্যানসার রোগী বা লাইন ক্যানসারের রোগীর অ্যানিমিয়া হতে পারে।

কিছু কিছু রক্তের অসুখ আছে যেগুলো ঠিক রক্তের ক্যানসার নয় কিন্তু প্রি ক্যানসারাস। এগুলো থেকে অ্যানিমিয়া উৎপত্তি হতে পারে। অর্থাৎ এই আলোচনা থেকে আমরা যেটা জানলাম সেটা হচ্ছে অ্যানিমিয়ার কোন নির্দিষ্ট একটা কারণ নেই। তায় সব অ্যানিমিয়া কেই আয়রন ডেফিসিয়েন্সি বলে দাগিয়ে দেওয়াটা উচিত নয়। এবং সবাইকে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো উচিত নয়। অ্যানিমিয়ার অসংখ্য কারণ আছে, সেই কারণ গুলোকে একে একে আইডেন্টিফাই বা সনাক্ত করতে হবে। সেটাই একজন haemato-oncologist এর কাজ, তিনি রোগীর ইতিহাস নিয়ে তাঁকে ভালভাবে পরীক্ষা করে তাঁকে যথাযথ কিছু ইনভেস্টিগেশন করিয়ে অ্যানিমিয়ার কারণ বার করেন এবং অ্যানিমিয়ার কারণটা জানা গেলে তাঁর আরোগ্য করাটাও খুব কঠিন নয়৷

FaQ

কোন রোগটি আয়রন নামক খনিজ মৌলের অভাবজনিত রোগ?

রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগটি আয়রন নামক খনিজ মৌলের অভাবজনিত রোগ।

রক্তাল্পতা কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?

রক্তাল্পতা B12 ভিটামিনের অভাবে হয়।

Sharing Is Caring: