দাউদ এর চিকিৎসা | দাউদ এর চিকিৎসা কি

আজকে আমরা একটা অতি পরিচিত সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে কথা বলবো এবং এটা খুব অত্যন্ত কমন একটা চর্মরোগ এটাকে আমরা সবাই সাধারণভাবে দাদ বা দাউদ হিসেবে চিনে থাকি। এই লেখার মাধ্যমে আমরা জানব দাউদ এর চিকিৎসা কি? কিভাবে বুঝবে আপনার দাউদ হয়েছে? আরো অনেক কিছু, তো চলুন শুরু করা যাক।

কিভাবে বুঝব যে আমার দাউদ হয়েছে?

এটা সাধারণত শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হয়, যেমন সবচেয়ে বেশি ভাঁজযুক্ত স্থানগুলোতে যেখানে আমরা বেশি ঘেমে যায়, বগলে কুঁচকিতে, নাভিতে এসব স্থানে দেখা যায়।একটা গোলাকৃতি লালচে দানা যুক্ত চাকতির মত এটা স্টার্ট হয়।

তারপরে সেটা ক্রমান্বয় বড় হতে থাকে। এরপরে যখন এটা বড় হতে থাকে, মধ্যে দেখা যায় যে স্বাভাবিক একটা স্ক্রিন চলে আসে এবং বাইরের দিকটাতে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। প্রচণ্ড চুলকানি থাকে এবং এটার সাথে হচ্ছে কিছুটা ছোট ছোট পুঁজ থাকতে পারে। eczema digestion হতে পারে, কিছু dizziness থাকতে পারে, এধরনের একটা লেশন দেখলে আমরা সাধারণত এটাকে দাদ বা দাউদ হিসেবে ধারণা করে নেব, যে এটা দাদ বা দাউদ হতে পারে।

তবে আসলে এটার মতো দেখতে বেশ কিছু রোগ আছে যেমন ইন্টারট্রিগো। সুতারং এই যে আমরা কমনলি দেখে বুঝে যাবো, যে এরকম হয়ে দাদ বা দাউদ হয়েছে, এটা আসলে চিন্তা করা ঠিক না।

আমরা কিভাবে ডায়াগনোসিস করব?

ডায়াগনোসিসের ক্ষেত্রে যেটা হয়, আমরা যদি কেউ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চলে আসি ডাক্তারের কাছে, সে ক্ষেত্রে দেখা যায় যে শুধুমাত্র একজন ক্লিনিক্যালি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এটাকে identify করতে পারে। খুব সহজেই identify করা সম্ভব সাধারণত কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয় না।

কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা আসলে যে পেসেন্ট গুলো পাই তাদের ৯৫% দেখা যায় যে তারা কোন না কোন ক্রিম, লোশন কোন ফার্মেসি থেকে হোক বা বাইরের কোনো চটকদার কোন বিজ্ঞাপন দেখে সে কোন ক্রিম লাগাচ্ছে অথবা আত্মীয় স্বজনের কোন প্রেসক্রিপশন বা মতামত নিয়ে কিছু একটা ক্রিম লাগিয়ে আসে। সে ক্ষেত্রে ঝামেলাটা লেগে যায় তখন রোগের বেশিক লেশন চেহারাটা একটু চেঞ্জ হয়ে যায় এবং তখন ডায়াগনোসিস করতে ডাক্তারের অনেক বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়।

এবং ব্যাপারটা একটু জটিল হয়ে যায় কারণ ডার্মাটোলজিতে আসলে বেশিরভাগ ডায়াগনোসিস ই ক্লিনিক্যাল, তো লেশণ টা চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে তখন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা কিন্তু জিনিসটা কে চিনতে পারছে না। সুতরাং আমাদের আসলে যে কারণে উচিত যে কোন একটা এরকম কোন চর্মরোগ দেখলে অবশ্যই প্রাথমিক পর্যায়েই কোনরকম ক্রিম ছাড়াই ডক্টরের কাছে চলে আসা।

এবং এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ডায়াগনোসিস করতে পারে। এবং খুব সহজেই জিনিসটা নির্মলযোগ্য, এবং এটা কিন্তু পুরোপুরি নিরাময় হয়ে যায়। এটা খুব সহজে ভালো হয়ে যায় অথচ আমরা বিভিন্ন রকম ক্রিম লাগিয়ে রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে ফেলি এবং দেখা যাচ্ছে ভাল হচ্ছেনা। তখন বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ঔষধপত্র অনেক দীর্ঘদিন ধরে খেতে হয়। এটা আমরা সবচেয়ে কমন যে ভুলটা করে থাকি, এটা করা যাবে না।

দাদ বা দাউদ হলে কি করবেন না

এখন আমরা কি করতে পারি, আসলে কি করতে পারি বলার আগে বলতে হবে আমরা কি করবো না। আমরা প্রথমেই যেটা বললাম যে ফার্মেসি থেকে কোন Mix preparation বিভিন্ন ধরনের স্টেরয়েড preparation অথবা আমরা বেশ কিছু ওষুধ ও খেয়ে ফেলি যেটা আন্ডার ডোজ হয়ে যায় বা প্রয়োজন নাই ইদানিং তো অনেক অভার ডোজ এর ওষুধ ও খেয়ে ফেলি তখন দেখা যায় আমাদের আসলে ওষুধ গুলো কাজ করছে না। এই কাজ টা একেবারেই করা যাবে না।

দ্বিতীয়ত হচ্ছে কি আমাদের দেশে তো আসলে উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়া এটার জন্য দেখা যায় দাদা টা আসলে সহজে ভালো হতে চায় না। যত বেশি পেশেন্ট ঘামবে ততই ভালো হতো অনেক বেশি সময় লাগে। সুতারং যত বেশি আলো-বাতাস পূর্ণ খোলা শুষ্ক স্থানে থাকা যায় এটার ব্যাপারে খুব নজর দিতে হবে।কখনই পরিধেয় কাপড় চোপড় শেয়ার করা যাবে না, সব সময় একটু সুতি কাপড় পরার চেষ্টা করতে হবে। ঘাম হলে যেন শোষণ করে নিতে পারে বারেবারে এই গুলো খেয়াল রাখতে হবে। ছোট বাচ্চারা যদি ঘেমে যায় বারবার ঘামটা একটু মুছে দিতে হবে। বড়দের ক্ষেত্রে জিনিসটাকে ক্লিন করে রাখতে হবে।

আরেকটা ব্যাপার আছে, অপরিচ্ছন্নতা যেমন দাদের একটা কারণ। তেমন অতি পরিছন্নতা ও দাদের একটা কারণ। অনেকে দেখা যায় যে যখন একটা ইনফেকশন হয় তখন তারা স্যাভলন, ডেটল বিভিন্ন রকম জিনিস স্নানের জলের মধ্যে দিয়ে স্নান করছেন, অনেক বেশি গরম জল, অতিরিক্ত ক্ষার যুক্ত সাবান ইউজ করছেন এই কাজটা করা যাবে না। যখন আমরা স্কিন টাকে erosion করে ফেলি তখন আসলে ওষুধটা আরো বেশি সেকেন্ডের মধ্যে ইনফেকশন হয়ে যায় এবং ওষুধ এর CBITs টা আরো জটিল হয়ে যায়।

একটা কাজ করতে হবে যদি পেশেন্টের ডায়াবেটিস থাকে, তবে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে কারণ ডায়াবেটিস থাকলে সাধারণত দাদ বা দাউদ এর ক্ষেত্রে সহজে কোন ওষুধ কাজ করতে চায় না। বেশ কিছু ওষুধ আছে যেটা খেলে আমাদের আসলে দাদ বা দাউদ টা বের হয়ে যায়। steroid জাতীয় কিছু ওষুধ এবং এছাড়া অন্যান্য কিছু ওষুধ আছে বা কিছু ক্রনিক ডিজিজ আছে। যখন পেশেন্টের ইমিউনিটি একটু কম থাকে তখন এটা সহজে সাড়তে চায় না। এসব ক্ষেত্রে এই গুলোকে আমাদেরকে নজরে রাখতে হবে।

দাউদ এর চিকিৎসা

ট্রিটমেন্ট আসলে দুই ধরণের একটা হচ্ছে মেইনটেনেন্স আর একটা হচ্ছে মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট।

মেইনটেনেন্স দাউদ এর চিকিৎসা

বেসিক যেটা আমাদের মেইনটেইন করতে হবে এটা আসলে খুব ভাইটাল। বেসিক মেইনটেনেন্স এর মধ্যে Present কে অবশ্যই শুষ্ক আবহাওয়ায় থাকতে হবে, স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া কে এভোয়েড করতে হবে, আর ঘেমে গেলে ঘামটা মুছে মুছে রাখতে হবে। নিয়মিত স্নান করতে হবে, প্রতিদিনের ড্রেসটা আসলে প্রতিদিন অবশ্যই একবার করে ধুয়ে দিতে হবে, না ধুয়ে পড়া যাবেনা এবং যাদের এই অসুখ টা আছে তাদেরকে কাপড় চোপড় গুলোকে আলাদাভাবে ধুতে হবে।

কাপড় থেকেও আসলে আরেকজনের কাপড়ে ছড়াতে পারে। শুধু কাপড় শেয়ার না, কাপড় ধোয়ার সময় একটা বালতির মধ্যে দেখা যায় অনেকে অনেকগুলো কাপড় রাখছেন, এইভাবে একজন থেকে আরেক জনের মধ্যে দাউদ ছড়িয়ে পড়ছে। সেটা কে এভোয়েড করতে হবে। আমাদের আলাদাভাবে কাপড়টাকে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং রোদে শুকাতে হবে কাপড়টা। যদি এমন হয় যে আমরা রোদে দিতে পারছিনা ঘরের মধ্যে ফ্যানের বাতাসে শুকাতে হচ্ছে সে ক্ষেত্রে আয়রন করে পড়তে হবে। রেগুলার ইউজ এর ড্রেস টাও আমাদের আয়রন করে পড়তে হবে। একটু মাস খানেক বা দুই মাস হয়ত কষ্ট করলে আমরা এটা থেকে পরিত্রান পেতে পারি।

আর ফ্যামিলি মেম্বারদের যদি থাকে অবশ্যই সবাইকে ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। একজন ট্রিটমেন্ট নিলে আর অন্য কারো যদি থেকে যাচ্ছে তাহলে কিন্তু রোগি ভালো হবে না। তিনি ওষুধ খাচ্ছেন ওনার একটু কমে গেল, আরেকজনের থেকে আবার পরবর্তীতে আবার হতে পারে। এটা একটা হাইলি ছোঁয়াচে রোগ। সুতরাং মেইনটেনেন্স গুলো খুব জরুরী মনে রাখতে হবে।

মেডিক্যাল দাউদ এর চিকিৎসা

মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট এর ক্ষেত্রে দেখতে হবে যে দাদের মতো দেখতে আরো কিছু রোগ যা আছে আমরা অনেক সময় দাদ মনে করে বারেবারে আমরা নরমাল ওষুধ খাচ্ছি, আন্ডার ডোজ খাচ্ছি। বাজারে যেগুলো আমাদের এন্টিফাঙ্গাল খাবার ওষুধ আছে, Present সব ধরনের ওষুধ খেয়ে আসছে, অনেক আবার হাই পাওয়ারের ওষুধ খাচ্ছেন এবং দেখা যাচ্ছে আসলে হয়তো তার দাদ ছিল না। তার অন্য কিছু ছিল সুতরাং এই লেভেলে যাবার আগে অবশ্যই আমাদেরকে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এই খাবার ওষুধটা খেতে হবে।

কারণ এর সাথে আরও কিছু ব্যাপার আছে যেগুলো থাকলে Present সহজে ভাল হবেন না সুতরাং এগুলো দেখতে হবে। সে ক্ষেত্রে যেহেতু লম্বা সময় ওষুধ খেতে হয় অবশ্যই আমাদের লিভার কিডনি টা একটু দেখে নিতে হয় নাহলে ওষুধ এর একটা সাইড এফেক্ট হতে পারে।এটা বুঝে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ তাকে একটা সঠিক গাইডলাইন ট্রিটমেন্ট দিতে পারবেন। আর ক্রিমের ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের, ফার্মেসি থেকে না নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শমতো চিকিৎসা নেয়া উচিত সবাইকে।

আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে লেখা টি পড়ছেন, আপনার জন্য নিচে আমি একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের নাম ও তার সিরিয়াল নেবার নম্বর দিলাম।

Dr. Ayesha Siddika
Consultant (skin and sexual)
MBBS, BCS (Health), MCPS, MD (Dermatology and Venereology)
Dhaka Medical College and Hospital
Chamber: Impulse Hospital, Tejgaon, Dhaka
Serial: 01313-434421-25

Sharing Is Caring: